বিদায়ী বক্তব্যে বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল
- আপডেট সময় : ১১:৩৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 10

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বারবার কেঁদেছেন দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এ ঘটনা ঘটে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভাটি চলে প্রায় দেড় ঘণ্টা।
সভায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের অবহিত করেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জানান, নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলে মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হবে।
এরপর বক্তব্য দিতে দাঁড়ান মির্জা ফখরুল। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দলের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমা চান।
তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, তা জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবেন না বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল সবার কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মিনিটের বক্তব্যে মির্জা ফখরুল চার থেকে পাঁচবার কেঁদে ফেলেন। এতে সভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
‘অনেক মূল্য দিয়ে আজ এ জায়গায়’
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘অনেক মূল্য দিয়ে আমরা আজ এ জায়গায় এসেছি।’ এ জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত। দলের কঠিন সময়ে সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কখনো হাল ছাড়েননি। রাজনৈতিক জীবনে তাকে কারাবন্দীও হতে হয়েছে।
তারেক রহমান দলীয় সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবারের নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকার নির্দেশনা দেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সতর্কতা
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও দলীয় সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, অনেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দলের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। এ দূরত্ব কোনোভাবেই বাড়তে দেওয়া যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে। ফলে নির্বাচনটি চ্যালেঞ্জিং হবে। গত সংসদ নির্বাচনে অনেকে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এবার যাতে কেউ দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান না নেন, সে বিষয়ে এখন থেকেই সাংগঠনিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করে তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
বিএনপির সংসদীয় দলের এ বৈঠকে একদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে মির্জা ফখরুলের আবেগঘন বিদায়, অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমানের সাংগঠনিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা গুরুত্ব পায়।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

























