তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ তাকাইচির
- আপডেট সময় : ১০:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
- / 11

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও জাপানের সপ্তম পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ সভায় (এফওসি) জাপানের পক্ষ থেকে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম। জাপানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির সিনিয়র ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নামাজু হিরোয়ুকি। বৈঠকে জাপানি মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির পক্ষ থেকে সুবিধাজনক সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন।
এ সময় দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার ও বিস্তৃত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ), বিগ-বি উদ্যোগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানো, জাপানে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নাগরিক সমাজের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।
জাপানের সিনিয়র ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নামাজু হিরোয়ুকি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি জাপানের মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি) পরিকল্পনা সম্পর্কে বাংলাদেশকে অবহিত করেন।
নামাজু হিরোয়ুকি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি, বিগ-বি উদ্যোগ এবং সরকারি নিরাপত্তা সহায়তা (ওএসএ) কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে সম্প্রতি পাঁচটি টহল নৌযান হস্তান্তরকে স্বাগত জানান তিনি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর ও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইপিএ বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া বিগ-বি উদ্যোগের আওতায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা মেট্রোরেল এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার কারণে সৃষ্ট মানবিক ও আর্থসামাজিক চাপের বিষয়টি তুলে ধরে পররাষ্ট্রসচিব নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেন। এ সংকটে জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও দুই দেশের প্রতিনিধিরা মতবিনিময় করেন। জাতিসংঘ সনদের নীতি সমুন্নত রাখা এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।
এদিকে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকেও জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে পরবর্তী পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ সভা ২০২৭ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।























