ঢাকা ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনের আগেই ফিরতে মরিয়া ‘পলাতক শক্তি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 434

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

দৈনিক দেশ আমার অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নির্বাচনের আগে দেশে সহিংসতা ও গোপন হামলার মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া শক্তিগুলো বুঝে গেছে যে তরুণ যোদ্ধারাই তাদের পুনরুত্থানের সবচেয়ে বড় বাধা। সে কারণেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই তারা বাধা সরিয়ে নিজেদের পুরোনো কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর সাম্প্রতিক হামলা কোনো একক ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়; এটি বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি জানান, হাদি বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং তার চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং দেশবাসীকে তার সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।

ড. ইউনূস বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, পরাজিত ফ্যাসিস্ট ও সন্ত্রাসী শক্তির এই অপচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। ভয়, সন্ত্রাস বা রক্তপাতের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না। তিনি জনগণকে গুজব ও অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীরা সফল হতে পারবে না।

তরুণদের প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে তারা জানে— এই নির্ভীক, স্বার্থহীন তরুণরাই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। নির্বাচন আসার আগেই তারা এই তরুণ শক্তিকে দমিয়ে রাখতে চায়। চোরাগোপ্তা হত্যাকাণ্ড সেই ষড়যন্ত্রেরই একটি রূপ, তবে আরও কঠিন পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, দেশের সবাইকে জোরালোভাবে বলতে হবে— আমরা আমাদের তরুণদের রক্ষা করব। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ওপর জনগণের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নির্বাচনের আর মাত্র দুই মাস বাকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সময়টাকে হিংসা ও কোন্দলমুক্ত রেখে গণতান্ত্রিক উৎসবে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করছে। পরিবারের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে দেশে ও প্রয়োজনে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সব ব্যবস্থা বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, সরকার একটি অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিরাপত্তা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও পর্যবেক্ষণের প্রতিটি ধাপ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি জনগণকে ভোটকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে নতুন বাংলাদেশ গঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।

শেষে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচনে একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখবেন, শত্রু হিসেবে নয়। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে আরও দৃঢ় করবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

নির্বাচনের আগেই ফিরতে মরিয়া ‘পলাতক শক্তি’

আপডেট সময় : ০৯:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

নির্বাচনের আগে দেশে সহিংসতা ও গোপন হামলার মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া শক্তিগুলো বুঝে গেছে যে তরুণ যোদ্ধারাই তাদের পুনরুত্থানের সবচেয়ে বড় বাধা। সে কারণেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই তারা বাধা সরিয়ে নিজেদের পুরোনো কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর সাম্প্রতিক হামলা কোনো একক ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়; এটি বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি জানান, হাদি বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং তার চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং দেশবাসীকে তার সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।

ড. ইউনূস বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, পরাজিত ফ্যাসিস্ট ও সন্ত্রাসী শক্তির এই অপচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। ভয়, সন্ত্রাস বা রক্তপাতের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না। তিনি জনগণকে গুজব ও অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীরা সফল হতে পারবে না।

তরুণদের প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে তারা জানে— এই নির্ভীক, স্বার্থহীন তরুণরাই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। নির্বাচন আসার আগেই তারা এই তরুণ শক্তিকে দমিয়ে রাখতে চায়। চোরাগোপ্তা হত্যাকাণ্ড সেই ষড়যন্ত্রেরই একটি রূপ, তবে আরও কঠিন পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, দেশের সবাইকে জোরালোভাবে বলতে হবে— আমরা আমাদের তরুণদের রক্ষা করব। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ওপর জনগণের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নির্বাচনের আর মাত্র দুই মাস বাকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সময়টাকে হিংসা ও কোন্দলমুক্ত রেখে গণতান্ত্রিক উৎসবে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করছে। পরিবারের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে দেশে ও প্রয়োজনে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সব ব্যবস্থা বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, সরকার একটি অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিরাপত্তা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও পর্যবেক্ষণের প্রতিটি ধাপ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি জনগণকে ভোটকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে নতুন বাংলাদেশ গঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।

শেষে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচনে একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখবেন, শত্রু হিসেবে নয়। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে আরও দৃঢ় করবে।