বাবা হারিয়ে মেসির হৃদয়ভাঙা বার্তা
- আপডেট সময় : ১০:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
- / 4

বাবা হোর্হে হোরাসিও মেসিকে হারিয়ে গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত শনিবার (৮ আগস্ট) আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান হোর্হে মেসি। বাবার মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক বার্তায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন মেসি।
বাবাকে শুধু পিতা হিসেবে নয়, জীবনের অন্যতম কাছের বন্ধু ও দীর্ঘদিনের প্রতিনিধি হিসেবেও স্মরণ করেছেন মেসি। তার দীর্ঘ বার্তায় উঠে এসেছে বাবাকে হারানোর শূন্যতা, শৈশবের স্মৃতি এবং ফুটবল ক্যারিয়ারে বাবার অবদানের কথা।
মেসি লিখেছেন, বাবা আর নেই; এটা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি। বাবাকে আর দেখতে বা তার সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না, এই বাস্তবতাও মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে হোর্হে অনেক কষ্ট পেয়েছেন উল্লেখ করে মেসি বলেন, সেই কষ্টের অবসান হয়তো তার জন্য ভালো হয়েছে। তবে বাবার চলে যাওয়ার সময়টা খুব তাড়াতাড়ি এসেছে বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।
বিশেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপের সময় বাবার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো স্মরণ করেছেন মেসি। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আগে হোর্হে তাকে খেলতে যাওয়ার জন্য বারবার উৎসাহ দিয়েছিলেন। বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক দিন আগে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও মেসির মা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে হোর্হে সুস্থ হয়ে একসময় ভ্রমণ করতে পারবেন।
তখন বাবাকে উদ্দেশ করে মেসি বলেছিলেন, আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠবে এবং অন্তত একটি ম্যাচ যেন তিনি মাঠে বসে দেখতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি।
বিশ্বকাপ চলাকালে বাবার অসুস্থতার কারণে অনেক অনুভূতি অন্য কারও সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেননি মেসি। তবে বাবার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতেন। মেসির ভাষায়, কঠিন সময়ে তিনি বাবার কাছে যেতেন, কারণ সবকিছু নিয়ে অন্যদের সঙ্গে কথা বলা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।
শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মেসি জানান, তার ফুটবলজীবনের শুরু থেকেই হোর্হে ছিলেন অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। কাজ থেকে বাড়ি ফিরেই ছেলেকে অনুশীলনে নিয়ে যেতেন তিনি। মেসির কোনো ম্যাচও মিস করতেন না। মাঠে ছেলের পারফরম্যান্স নিয়ে যেমন উদ্বিগ্ন থাকতেন, তেমনি সাফল্যে আনন্দও পেতেন। তবে বাবা হিসেবে অতিরিক্ত প্রশংসা করার মানুষ ছিলেন না হোর্হে।
মেসির কাছে তার বাবা ছিলেন একই সঙ্গে অভিভাবক, বন্ধু ও প্রতিনিধি। ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি বাঁকে তিনি ছেলের পাশে ছিলেন। কখনও মতবিরোধ বা ঝগড়া হলেও সময়ের সঙ্গে বাবার পরামর্শই সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে; এমন স্মৃতিও তুলে ধরেছেন মেসি।
বাবাকে হারানোর পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও এক ধরনের শূন্যতার কথা জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা। আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি জানি না তোমাকে ছাড়া কী করব, কীভাবে এগিয়ে যাব।’
মেসির ফুটবলজীবনের শুরু থেকে দীর্ঘ পথচলায় হোর্হে ছিলেন ছেলের অন্যতম প্রধান সঙ্গী। তাই বাবাকে হারানোর পর ফুটবল চালিয়ে যাওয়া নিয়েও তার মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে বার্তায় ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোই ছিল হোর্হের সবচেয়ে বড় আনন্দ; এমনটিও জানিয়েছেন মেসি। স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের দেখতে যেমন ভালোবাসতেন, তেমনি ছেলের খেলা দেখাও ছিল তার আনন্দের অন্যতম উৎস।
মেসির বিশ্বাস, তার বাবা পরিবারের মধ্যেই বেঁচে থাকবেন। বিশেষ করে নিজের সন্তানদের মানুষ করার ক্ষেত্রে বাবার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা ও মূল্যবোধ অনুসরণ করবেন তিনি।
বাবাকে উদ্দেশ করে মেসি লিখেছেন, তিনি সবসময় পরিবারের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন। ফুটবল মাঠে মেসির অসংখ্য সাফল্যের নেপথ্যে যে মানুষটি শৈশব থেকে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন, তার চলে যাওয়া তাই মেসির ব্যক্তিজীবনে তৈরি করেছে অপূরণীয় শূন্যতা।
হোর্হে মেসি ছিলেন লিওনেল মেসির বাবা এবং দীর্ঘদিনের প্রতিনিধি। ছেলের শৈশব থেকে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি পাশে থেকে নানা সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রেখেছেন।
বিদায়ী বার্তার শেষদিকে বাবার প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে মেসি লেখেন, শান্তিতে বিশ্রাম নিতে এবং ওপর থেকে তাদের দেখে যেতে। সবকিছুর জন্য বাবাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি, বাবা।’






















