দুই লাখ কর্মী নেওয়ার ঘোষণায় ভিন্ন সুর মালয়েশিয়ার
- আপডেট সময় : ১১:২৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 7

বাংলাদেশ থেকে আগামী ছয় মাসে দুই লাখ কর্মী নেওয়া হবে; স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এমন বক্তব্যকে বাংলাদেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশটির মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়া সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল এ কথা বলেন। খবর নিউ স্ট্রেইটস টাইমস ও মালয় মেইলের।
ফাহমি ফাদজিল জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাকে রামানান জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
মালয়েশিয়ার এই মুখপাত্র বলেন, তিনি যতটুকু বুঝেছেন, এটি বাংলাদেশের একজন জুনিয়র মন্ত্রীর বক্তব্য। ফলে ওই বক্তব্যকে বাংলাদেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
এর আগে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, আগামী ছয় মাসে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ কর্মী নেবে। সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শুহাদা ওসমানের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া অনুমোদিত বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে এসব কর্মী নেবে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ধাপে ধাপে বাংলাদেশি কর্মীদের পাঠানো শুরু হবে এবং ছয় মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া আরও ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
তবে মালয়েশিয়া সরকারের সর্বশেষ বক্তব্যে দুই লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশটির মুখপাত্র স্পষ্ট করে বলেছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেই।
নিউ স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানানের বক্তব্য চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে কয়েক মাস ধরেই দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান।
এর আগে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম, দালালচক্র ও শ্রমিক শোষণের অভিযোগের পর ২০২৪ সালে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করে মালয়েশিয়া। সে সময় বাংলাদেশি কর্মীদের ঋণের ফাঁদে ফেলা, জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা এবং প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর মতো অভিযোগও সামনে আসে।
ফলে প্রতিমন্ত্রীর দুই লাখ কর্মী নেওয়ার ঘোষণার বিপরীতে মালয়েশিয়া সরকারের বক্তব্যে দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে।














