ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংক

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:০২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 3

বিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংক

দৈনিক দেশ আমার অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের পুরোনো ও বিতর্কিত পরিচালকদের হাতে মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ বন্ধ হতে যাচ্ছে। ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ায় এস আলমসহ বিতর্কিত ব্যাংক মালিকদের পরিচালনা পর্ষদে ফেরার পথও কার্যত বন্ধ হচ্ছে।

সরকার এ লক্ষ্যে ‘ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে। মন্ত্রিসভায় খসড়াটির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং শেষে সংশোধনীটি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারায় একটি বিকল্প ব্যবস্থার সুযোগ রাখা হয়েছিল। এর আওতায় সংকটে পড়া বা একীভূত ব্যাংকের পুরোনো পরিচালকরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার আবেদন করতে পারতেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই ধারার আওতায় আবেদন করেনি।

এ কারণে সরকার মনে করছে, ধারাটি বহাল রাখার প্রয়োজন নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ১৮(ক) ধারা বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক খাতের আর্থিক সংকট মোকাবিলা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালে ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। পরে সেটিকে আইনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপনের পর তা পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয় এবং ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন, ২০২৬-এ ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা হয়।

ধারাটির উদ্দেশ্য ছিল সংকটে পড়া ব্যাংককে পুনর্গঠন ও সচল রাখা, মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট মোকাবিলা করা এবং আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা করা। একই সঙ্গে ব্যাংক উদ্ধারে সরকারের আর্থিক দায় কমানোর লক্ষ্যও ছিল।

তবে ধারাটি নিয়ে ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা ছিল। বিশেষ করে সংকটে পড়া ব্যাংকের পুরোনো ও বিতর্কিত পরিচালকদের অল্প অর্থ পরিশোধ করে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশ্বব্যাংকও এ বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।

সরকারের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ১৮(ক) ধারা আর কার্যকর থাকবে না। ফলে একীভূত বা সংকটে পড়া ব্যাংকের পুরোনো বিতর্কিত মালিকদের আগের ব্যবস্থায় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগও থাকবে না।

তবে ধারা ১৮(ক) বাতিল হলেও ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট কিংবা অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনের অন্যান্য বিধান কার্যকর থাকবে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সংশোধনী আইনের খসড়াটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ভেটিংয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। ভেটিং শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এটি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংক

আপডেট সময় : ১০:০২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের পুরোনো ও বিতর্কিত পরিচালকদের হাতে মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ বন্ধ হতে যাচ্ছে। ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ায় এস আলমসহ বিতর্কিত ব্যাংক মালিকদের পরিচালনা পর্ষদে ফেরার পথও কার্যত বন্ধ হচ্ছে।

সরকার এ লক্ষ্যে ‘ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে। মন্ত্রিসভায় খসড়াটির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং শেষে সংশোধনীটি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারায় একটি বিকল্প ব্যবস্থার সুযোগ রাখা হয়েছিল। এর আওতায় সংকটে পড়া বা একীভূত ব্যাংকের পুরোনো পরিচালকরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার আবেদন করতে পারতেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই ধারার আওতায় আবেদন করেনি।

এ কারণে সরকার মনে করছে, ধারাটি বহাল রাখার প্রয়োজন নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ১৮(ক) ধারা বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক খাতের আর্থিক সংকট মোকাবিলা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালে ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। পরে সেটিকে আইনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপনের পর তা পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয় এবং ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন, ২০২৬-এ ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা হয়।

ধারাটির উদ্দেশ্য ছিল সংকটে পড়া ব্যাংককে পুনর্গঠন ও সচল রাখা, মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট মোকাবিলা করা এবং আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা করা। একই সঙ্গে ব্যাংক উদ্ধারে সরকারের আর্থিক দায় কমানোর লক্ষ্যও ছিল।

তবে ধারাটি নিয়ে ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা ছিল। বিশেষ করে সংকটে পড়া ব্যাংকের পুরোনো ও বিতর্কিত পরিচালকদের অল্প অর্থ পরিশোধ করে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশ্বব্যাংকও এ বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।

সরকারের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ১৮(ক) ধারা আর কার্যকর থাকবে না। ফলে একীভূত বা সংকটে পড়া ব্যাংকের পুরোনো বিতর্কিত মালিকদের আগের ব্যবস্থায় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগও থাকবে না।

তবে ধারা ১৮(ক) বাতিল হলেও ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট কিংবা অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনের অন্যান্য বিধান কার্যকর থাকবে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সংশোধনী আইনের খসড়াটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ভেটিংয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। ভেটিং শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এটি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।