৩৫০ রানে অপরাজিত হৃদয়,
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ম্যাচ ড্র
- আপডেট সময় : ০৫:০৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 11

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের শেষ আনঅফিসিয়াল চার দিনের ম্যাচে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত কীর্তি গড়েছেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। তার ৩৫০ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ম্যাচটি ড্র করেছে বাংলাদেশ।
পচেফস্ট্রুমে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসের ৫১২ রানের জবাবে চতুর্থ দিনে ৮ উইকেটে ৬৭৬ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। এতে ১৬৪ রানের লিড নেয় সফরকারীরা। বিশাল এই ইনিংসে হৃদয়ের অবদান ছিল ৩৫০ রান।
৪৮১ বলের ইনিংসে হৃদয় ২৭টি চার ও ১০টি ছক্কা হাঁকান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটিই তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। এর আগে তার সেরা ইনিংস ছিল ২১৭ রানের।
তৃতীয় দিন শেষ হওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ৪৭১ রান। তখন ২০৪ রানে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়। চতুর্থ দিনের শুরুতে নাইম হাসান ও হাসান মুরাদ দ্রুত ফিরে গেলে কিছুটা চাপ তৈরি হয় বাংলাদেশের ওপর। ৫১৯ রানে অষ্টম উইকেট হারানোর পর রেজাউর রহমান রেজাকে নিয়ে ইনিংস সামাল দেন হৃদয়।
৩৮১ বলে ২৫০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এরপর মাত্র ৬৯ বলের ব্যবধানে ৩০০ রান পূর্ণ করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ট্রিপল সেঞ্চুরির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। মাত্র ৩১ বলে পরবর্তী ৫০ রান যোগ করে ৩৫০-এ পৌঁছান হৃদয়।
নবম উইকেটে রেজাউর রহমানের সঙ্গে তার জুটিতে যোগ হয় ১৫৭ রান। রেজা করেন ৩১ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার কাইল সিমন্ডস বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের বিপক্ষে ২৩৯ রান খরচ করে চারটি উইকেট নেন।
হৃদয়ের এই ইনিংস বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের রেকর্ডেও বড় পরিবর্তন এনেছে। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের আগের রেকর্ডটি ছিল তামিম ইকবালের ৩৩৪। ২০১৯ সালে বিসিএলে ইস্ট জোনের হয়ে সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে ওই ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। এবার তাকে ছাড়িয়ে ৩৫০ রান করে রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন হৃদয়।
বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরির দেখা পেলেন হৃদয়। এর আগে রাকিবুল হাসান ৩১৩ এবং তামিম ইকবাল ৩৩৪ রান করেছিলেন।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও এখন হৃদয়ের। এর আগে ২০০৩ সালে করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং অথরিটির বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে শাহরিয়ার হোসেনের ২১৮ রান ছিল সর্বোচ্চ।
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সফরকারী ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০০ পেরোনো দ্বিতীয় ব্যাটার হয়েছেন হৃদয়। ১৯৪৮ সালে ইংল্যান্ডের ডেনিস কম্পটন এমসিসির হয়ে ৩০০ রান করে প্রথমবার এই কীর্তি গড়েছিলেন।
অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের তালিকায় হৃদয় দ্বিতীয়। ২০০৯ সালে লায়ন্সের হয়ে ৩৯০ রান করেছিলেন স্টিভেন কুক, যা এখনো সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশের দেওয়া ১৬৪ রানের লিডের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ১২ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৮ রান সংগ্রহ করে। এরপর দুই দল ম্যাচের ফল ড্র হিসেবে মেনে নেয়।
সফরে এর আগে প্রথম চার দিনের ম্যাচে বাংলাদেশ ‘এ’ দল ইনিংস ও ৪১৩ রানে হেরেছিল। তবে শেষ ম্যাচে হৃদয়ের রেকর্ড গড়া ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ তুলে সফরের শেষ ম্যাচটি ড্র করে বাংলাদেশ।
আগামী ৬ সেপ্টেম্বর থেকে দুই দলের মধ্যে তিন ম্যাচের আনঅফিসিয়াল ওয়ানডে সিরিজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
















