ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক-মোদির বৈঠকেই ঢাকা-দিল্লির সমস্যার সমাধান

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 34

তারেক রহমান-মোদি এবং দীনেশ ত্রিবেদীতারেক রহমান-মোদি এবং দীনেশ ত্রিবেদী

দৈনিক দেশ আমার অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠক হলে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (আইভ্যাক) শিশুদের জন্য একটি খেলার জায়গা উদ্বোধন করেন দীনেশ ত্রিবেদী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য একাধিকবার শুনেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান জনগণের প্রতি সংবেদনশীল একজন নেতা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একইভাবে জনকল্যাণে বিশ্বাসী।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের দুই নেতা যখন মুখোমুখি আলোচনায় বসেন, তখন অনেক সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হয়। এ বিষয়ে তিনি পুরোপুরি আশাবাদী।

তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঐক্য ও সম্পর্ক রয়েছে এবং সেখান থেকেই একটি সমাধান বেরিয়ে আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কোনো নেতিবাচক বিষয় দেখছেন না বলেও মন্তব্য করেন।

এদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। গত ৪ আগস্ট নয়াদিল্লি এ আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনে বৈশ্বিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, টেকসই উন্নয়নসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বর্তমানে বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ। সেই অবস্থান বিবেচনায় ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। পাশাপাশি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্যও পৃথক দ্বিপাক্ষিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত ৭ আগস্ট নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশকে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ধরনের আমন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতি অনুসরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের প্রধানদেরও একই প্রক্রিয়ায় ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বিমসটেকের সদস্য দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ গত বছরের এপ্রিলে দুই বছরের জন্য সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে।

এর আগে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গত ২৯ জুলাই জানিয়েছিলেন, সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা জানানো হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি থেকে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ওই বক্তব্যের পর বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে ভারতের আমন্ত্রণ এবং দুই দেশের শীর্ষ নেতার সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের আশাবাদ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

তারেক-মোদির বৈঠকেই ঢাকা-দিল্লির সমস্যার সমাধান

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠক হলে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (আইভ্যাক) শিশুদের জন্য একটি খেলার জায়গা উদ্বোধন করেন দীনেশ ত্রিবেদী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য একাধিকবার শুনেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান জনগণের প্রতি সংবেদনশীল একজন নেতা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একইভাবে জনকল্যাণে বিশ্বাসী।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের দুই নেতা যখন মুখোমুখি আলোচনায় বসেন, তখন অনেক সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হয়। এ বিষয়ে তিনি পুরোপুরি আশাবাদী।

তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঐক্য ও সম্পর্ক রয়েছে এবং সেখান থেকেই একটি সমাধান বেরিয়ে আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কোনো নেতিবাচক বিষয় দেখছেন না বলেও মন্তব্য করেন।

এদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। গত ৪ আগস্ট নয়াদিল্লি এ আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনে বৈশ্বিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, টেকসই উন্নয়নসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বর্তমানে বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ। সেই অবস্থান বিবেচনায় ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। পাশাপাশি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্যও পৃথক দ্বিপাক্ষিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত ৭ আগস্ট নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশকে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ধরনের আমন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতি অনুসরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের প্রধানদেরও একই প্রক্রিয়ায় ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বিমসটেকের সদস্য দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ গত বছরের এপ্রিলে দুই বছরের জন্য সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে।

এর আগে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গত ২৯ জুলাই জানিয়েছিলেন, সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা জানানো হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি থেকে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ওই বক্তব্যের পর বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে ভারতের আমন্ত্রণ এবং দুই দেশের শীর্ষ নেতার সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের আশাবাদ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।