ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রায়পুরায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল বেড়ি নির্বাচনের আগেই ফিরতে মরিয়া ‘পলাতক শক্তি’ বিজয় দিবসের আগের রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরের ওপর আগুন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো অনিশ্চিত মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের ষড়যন্ত্র মানুষ নস্যাৎ করবে বিজয় দিবসে দীঘিনালায় জামায়াতে ইসলামীর বর্ণাঢ্য র‍্যালি পাতানো নির্বাচনে অংশ নেবো না: কাদের সিদ্দিকী জুলাই যোদ্ধা তামিমের বাবাকে জীবিত উদ্ধার মোদির পোস্টে ‘ভারতের বিজয় দিবস’, উল্লেখ নেই বাংলাদেশের নাম

বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 183

বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল

দৈনিক দেশ আমার অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মহান বিজয় দিবস আজ। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এটি এক গৌরবময় ও স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

দিবসটির প্রথম প্রহরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্মৃতিসৌধের প্রবেশদ্বার সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সকাল ৬টা ৩১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে এবং তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদদের সম্মানে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। একই দিনে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হওয়ার পর সকাল থেকেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। ভালোবাসা ও সম্মানে সিক্ত হয়ে ওঠে স্মৃতিসৌধ এলাকা।

বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।

১৬ ডিসেম্বর শুধু একটি ঐতিহাসিক দিন নয়, এটি বিজয়, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে এবং বাঙালি জাতি অর্জন করে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। বিজয় দিবস নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, ত্যাগ ও দায়বদ্ধতার চিরন্তন বার্তা স্মরণ করিয়ে দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল

আপডেট সময় : ১১:৩৩:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

মহান বিজয় দিবস আজ। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এটি এক গৌরবময় ও স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

দিবসটির প্রথম প্রহরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্মৃতিসৌধের প্রবেশদ্বার সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সকাল ৬টা ৩১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে এবং তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদদের সম্মানে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। একই দিনে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হওয়ার পর সকাল থেকেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। ভালোবাসা ও সম্মানে সিক্ত হয়ে ওঠে স্মৃতিসৌধ এলাকা।

বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।

১৬ ডিসেম্বর শুধু একটি ঐতিহাসিক দিন নয়, এটি বিজয়, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে এবং বাঙালি জাতি অর্জন করে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। বিজয় দিবস নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, ত্যাগ ও দায়বদ্ধতার চিরন্তন বার্তা স্মরণ করিয়ে দেয়।