ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই মাসে পরিবহন ৪০০ টন পণ্য

ডাকযোগে যাচ্ছে ফ্রিজ, মটর সাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 3

ডাক বিভাগ

দৈনিক দেশ আমার অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চিঠি বা ছোট পার্সেলের পাশাপাশি এখন ফ্রিজ, মোটরসাইকেল, আলমারি, ওয়ারড্রবসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী পণ্যও ডাক বিভাগের স্পিড পোস্টের মাধ্যমে দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠানো যাচ্ছে। গত দুই মাসে এই সেবায় প্রায় ৪০০ টন পণ্য পরিবহন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দেশের প্রচলিত আইনে নিষিদ্ধ নয়—এমন যেকোনো পণ্য স্পিড পোস্টের মাধ্যমে পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। পণ্য ডাক বিভাগের গাড়িতে পরিবহন, নির্ধারিত কেন্দ্রে ওঠানামা এবং পরবর্তী সময়ে পোস্টম্যানের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি মোটরসাইকেল ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রিজ, আলমারি, ওয়ারড্রবের মতো বড় আকারের আসবাব এবং শিক্ষার্থীদের কাঁথা-বালিশ ও বিছানাপত্রও পরিবহন করা হয়েছে। রান্নাঘরের বিভিন্ন সামগ্রী, হাঁড়ি-পাতিল, প্রেসার কুকার, ইন্ডাকশন চুলা, এলইডি টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, বাইসাইকেল এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত স্প্রে মেশিনও এখন এই সেবার আওতায় পাঠানো যাচ্ছে। ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি ফলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য মিলিয়ে গত দুই মাসে প্রায় ৪০০ টন পণ্য স্পিড পোস্টের মাধ্যমে পরিবহন হয়েছে। গ্রাহকদের সুবিধার জন্য অনলাইনে মাশুল ক্যালকুলেটরের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। ফলে পণ্য পাঠানোর আগেই সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে রাজধানীর জিপিও ছাড়াও গুলশান, বনানী, মিরপুর ও উত্তরাসহ কয়েকটি সাব-পোস্ট অফিস থেকে সরাসরি পণ্য পাঠানোর সুবিধা রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে পার্সেল পাঠানোর জন্য ডাক বিভাগের বৈদেশিক ইএমএস সেবাও চালু রয়েছে। স্পিড পোস্ট কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল রাখতে ডাক অধিদপ্তর নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা শহর থেকে ঢাকায় পাঠানো পণ্য সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা এবং প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বিলির জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসকে। তবে নিরাপত্তার কারণে কিছু পণ্য এই সেবার বাইরে রাখা হয়েছে। বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ, ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক রাসায়নিক, মাদকদ্রব্য, জীবন্ত প্রাণী, আগ্নেয়াস্ত্র এবং ভরা বা খালি গ্যাস সিলিন্ডার স্পিড পোস্টে পাঠানো যাবে না। কম মাশুলে এই সেবা দেওয়ার কারণ সম্পর্কে কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ডাক বিভাগের কাছে আর্থিক লাভের চেয়ে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ সহজ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জনগণকে সেবা দিতে পারার মধ্যেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগের সার্থকতা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডাক বিভাগের কার্যক্রমের কারণে মানুষের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা বেড়েছে বলেও জানান তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। ভোট দেওয়া থেকে শুরু করে ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপের তথ্য বার্তার মাধ্যমে জানার সুযোগ পেয়েছেন প্রবাসী ভোটাররা। এতে ডাক বিভাগের কার্যক্রমের প্রতি তাদের আস্থা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন মহাপরিচালক। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মানুষের মুখে মুখে স্পিড পোস্টের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা নিজেদের প্রয়োজনে এই সেবা ব্যবহার করে এর প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এর ফলে আলাদা বড় ধরনের প্রচারণা ছাড়াই সেবাটির পরিচিতি বাড়ছে। জনপ্রিয়তার এই ধারাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে ডাক বিভাগের মাধ্যমে আন্তঃজেলা বাসাবদলের সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। সম্প্রতি একজন গ্রাহক বদলির কারণে অন্য জেলায় যাওয়ার সময় পুরো বাসার আসবাবপত্র ডাকযোগে পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের সেবা চালু রয়েছে উল্লেখ করে কাজী আসাদুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশেও ভবিষ্যতে এমন ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব একটি প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৫০টি বৈদ্যুতিক বাইক সংগ্রহ করা হয়েছে। ডাক বিভাগের মেইল ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতেও নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেইল প্রসেসিং সেন্টারকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় আসা মেইল, ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো মেইল এবং রাজধানীর অভ্যন্তরীণ মেইল একই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অন্যদিকে কমলাপুরের রেলওয়ে মেইল সার্ভিসের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ায় সেখানে বিভিন্ন ধরনের পণ্য একসঙ্গে ব্যবস্থাপনা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। এ কারণে ঢাকা জিপিও ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ করে বিদেশ থেকে আসা ও বিদেশে পাঠানো পার্সেল ব্যবস্থাপনায় সেটিকে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তেজগাঁও, কমলাপুর ও ঢাকা জিপিওকে কেন্দ্র করে সমন্বিতভাবে ডাক বিভাগের মেইল ব্যবস্থাপনা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মহাপরিচালক বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগের কাছে মুনাফা অর্জনই প্রধান লক্ষ্য নয়; বরং সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও সহজ সেবার মাধ্যমে দেশের এক প্রান্তের মানুষের সঙ্গে অন্য প্রান্তের মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ করাই স্পিড পোস্টের মূল উদ্দেশ্য। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্পিড পোস্ট সেবা চালু করা হয়। শুরুতে মৌসুমি ফল পরিবহনের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী ও ভারী পণ্য পরিবহনের সুযোগও যুক্ত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

দুই মাসে পরিবহন ৪০০ টন পণ্য

ডাকযোগে যাচ্ছে ফ্রিজ, মটর সাইকেল

আপডেট সময় : ১০:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিঠি বা ছোট পার্সেলের পাশাপাশি এখন ফ্রিজ, মোটরসাইকেল, আলমারি, ওয়ারড্রবসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী পণ্যও ডাক বিভাগের স্পিড পোস্টের মাধ্যমে দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠানো যাচ্ছে। গত দুই মাসে এই সেবায় প্রায় ৪০০ টন পণ্য পরিবহন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দেশের প্রচলিত আইনে নিষিদ্ধ নয়—এমন যেকোনো পণ্য স্পিড পোস্টের মাধ্যমে পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। পণ্য ডাক বিভাগের গাড়িতে পরিবহন, নির্ধারিত কেন্দ্রে ওঠানামা এবং পরবর্তী সময়ে পোস্টম্যানের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি মোটরসাইকেল ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রিজ, আলমারি, ওয়ারড্রবের মতো বড় আকারের আসবাব এবং শিক্ষার্থীদের কাঁথা-বালিশ ও বিছানাপত্রও পরিবহন করা হয়েছে। রান্নাঘরের বিভিন্ন সামগ্রী, হাঁড়ি-পাতিল, প্রেসার কুকার, ইন্ডাকশন চুলা, এলইডি টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, বাইসাইকেল এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত স্প্রে মেশিনও এখন এই সেবার আওতায় পাঠানো যাচ্ছে। ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি ফলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য মিলিয়ে গত দুই মাসে প্রায় ৪০০ টন পণ্য স্পিড পোস্টের মাধ্যমে পরিবহন হয়েছে। গ্রাহকদের সুবিধার জন্য অনলাইনে মাশুল ক্যালকুলেটরের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। ফলে পণ্য পাঠানোর আগেই সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে রাজধানীর জিপিও ছাড়াও গুলশান, বনানী, মিরপুর ও উত্তরাসহ কয়েকটি সাব-পোস্ট অফিস থেকে সরাসরি পণ্য পাঠানোর সুবিধা রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে পার্সেল পাঠানোর জন্য ডাক বিভাগের বৈদেশিক ইএমএস সেবাও চালু রয়েছে। স্পিড পোস্ট কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল রাখতে ডাক অধিদপ্তর নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা শহর থেকে ঢাকায় পাঠানো পণ্য সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা এবং প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বিলির জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসকে। তবে নিরাপত্তার কারণে কিছু পণ্য এই সেবার বাইরে রাখা হয়েছে। বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ, ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক রাসায়নিক, মাদকদ্রব্য, জীবন্ত প্রাণী, আগ্নেয়াস্ত্র এবং ভরা বা খালি গ্যাস সিলিন্ডার স্পিড পোস্টে পাঠানো যাবে না। কম মাশুলে এই সেবা দেওয়ার কারণ সম্পর্কে কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ডাক বিভাগের কাছে আর্থিক লাভের চেয়ে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ সহজ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জনগণকে সেবা দিতে পারার মধ্যেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগের সার্থকতা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডাক বিভাগের কার্যক্রমের কারণে মানুষের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা বেড়েছে বলেও জানান তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। ভোট দেওয়া থেকে শুরু করে ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপের তথ্য বার্তার মাধ্যমে জানার সুযোগ পেয়েছেন প্রবাসী ভোটাররা। এতে ডাক বিভাগের কার্যক্রমের প্রতি তাদের আস্থা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন মহাপরিচালক। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মানুষের মুখে মুখে স্পিড পোস্টের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা নিজেদের প্রয়োজনে এই সেবা ব্যবহার করে এর প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এর ফলে আলাদা বড় ধরনের প্রচারণা ছাড়াই সেবাটির পরিচিতি বাড়ছে। জনপ্রিয়তার এই ধারাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে ডাক বিভাগের মাধ্যমে আন্তঃজেলা বাসাবদলের সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। সম্প্রতি একজন গ্রাহক বদলির কারণে অন্য জেলায় যাওয়ার সময় পুরো বাসার আসবাবপত্র ডাকযোগে পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের সেবা চালু রয়েছে উল্লেখ করে কাজী আসাদুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশেও ভবিষ্যতে এমন ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব একটি প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৫০টি বৈদ্যুতিক বাইক সংগ্রহ করা হয়েছে। ডাক বিভাগের মেইল ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতেও নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেইল প্রসেসিং সেন্টারকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় আসা মেইল, ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো মেইল এবং রাজধানীর অভ্যন্তরীণ মেইল একই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অন্যদিকে কমলাপুরের রেলওয়ে মেইল সার্ভিসের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ায় সেখানে বিভিন্ন ধরনের পণ্য একসঙ্গে ব্যবস্থাপনা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। এ কারণে ঢাকা জিপিও ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ করে বিদেশ থেকে আসা ও বিদেশে পাঠানো পার্সেল ব্যবস্থাপনায় সেটিকে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তেজগাঁও, কমলাপুর ও ঢাকা জিপিওকে কেন্দ্র করে সমন্বিতভাবে ডাক বিভাগের মেইল ব্যবস্থাপনা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মহাপরিচালক বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগের কাছে মুনাফা অর্জনই প্রধান লক্ষ্য নয়; বরং সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও সহজ সেবার মাধ্যমে দেশের এক প্রান্তের মানুষের সঙ্গে অন্য প্রান্তের মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ করাই স্পিড পোস্টের মূল উদ্দেশ্য। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্পিড পোস্ট সেবা চালু করা হয়। শুরুতে মৌসুমি ফল পরিবহনের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী ও ভারী পণ্য পরিবহনের সুযোগও যুক্ত হয়েছে।