এবার মুখ খুললেন সালমান শাহের মামা
- আপডেট সময় : ০১:০১:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / 3

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন খলনায়ক আশরাফুল হক ডন। তাঁর গ্রেপ্তারের পর সালমান শাহর মামা ও হত্যা মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম দাবি করেছেন, সালমানকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্তে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ না করায় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) রাতে আলমগীর কুমকুম বলেন, সালমান শাহ হত্যা মামলায় তাঁর বাসার পরিচারিকা ডলি, মনোয়ারা ও আবুলের সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার মূল রহস্য বেরিয়ে আসতে পারে।
তিনি বলেন, পুলিশ সালমানের বন্ধু ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকের বক্তব্য নিয়েছে। কিন্তু বাসার পরিচারিকা ডলি, মনোয়ারা ও আবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ না করাটা তাঁর কাছে রহস্যজনক। এ কারণে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আলমগীর কুমকুম আরও দাবি করেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ডন সালমান শাহর মৃত্যুর দিন হরতালের কারণে তাঁর জানাজায় অংশ নিতে পারেননি বলে জানিয়েছিলেন। পরে তিনি সিলেটের একটি মাজারে গেলেও বন্ধুর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাননি। তাঁর মতে, এসব বিষয়ও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে ডন সরাসরি জড়িত ছিলেন বলেও দাবি করেন মামার। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ডন বা তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এর আগে রোববার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
বিকেলে ডনকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, মামলার এজাহারে ডনসহ অন্য আসামিদের পরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকা ডন বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলেও আদালতকে জানানো হয়।
সালমান শাহর মামা বলেন, ‘সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।
এদিকে ডনের গ্রেপ্তারের পর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, সালমানকে হত্যার সঙ্গে ডন ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তাঁর ভাষ্য, সালমানের মৃত্যুর পরও ডন তাঁকে বিভিন্নভাবে অপমান করেছেন এবং তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে নানা অপবাদ দিয়েছেন। সন্তানের হত্যার বিচার পাওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রায় তিন দশক পর হত্যা মামলা
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসা থেকে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর মৃত্যুকে ঝুলে শ্বাসরোধজনিত আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তাঁর বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন।
পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার আবেদন করেন তিনি। আদালতের নির্দেশে সিআইডি অপমৃত্যু ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করে। তবে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তেও হত্যার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০১৫ সালে সালমানের মা নীলা চৌধুরী ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেন এবং কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে মামলাটি র্যাব ও পিবিআই তদন্ত করে। ২০২০ সালে পিবিআইও জানায়, সালমান শাহকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত।
তবে সালমানের পরিবার এই তদন্তে সন্তুষ্ট হয়নি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় সালমান শাহ হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় তাঁর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।
এই মামলার তদন্ত চলাকালেই ডনকে গ্রেপ্তার করা হলো। ফলে প্রায় ৩০ বছর আগে ঘটে যাওয়া সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।














