মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
মঠবাড়িয়ার পেরু সিকদার, ফারুক ও বাবুল তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে জায়গা দখলের অভিযোগ মুজিব নগর দিবসকে জাতীয় দিবস হিসাবে স্বীকৃতি চায় বাউবি ছাত্র ঐক্য পরিষদ রূপগঞ্জে চুরি হওয়া ইজিবাইক সহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার ২ চোর যুবকের হাত বাঁধা অবস্থায় রূপগঞ্জে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার সোনারগাঁ থানার নবাগত ওসি হাফিজুর রহমান ডেমরায় দোকানের তালা কেটে ১০ লাখ টাকার মালামাল চুরি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনির আন্তরিকতায় অবহেলিত উপজেলা হাইমচর ফিরে পেয়েছে প্রাণ ঐতিহ্যবাহী মান্নান হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম পুনর্মিলনী আয়োজনের উদ্যোগ ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক এম.পি স্টোক করে স্কয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন যাত্রী ভোগান্তি বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ দাবি সেভ দ্য রোড-এর

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনির আন্তরিকতায় অবহেলিত উপজেলা হাইমচর ফিরে পেয়েছে প্রাণ

 

শরীফ মোঃ মাছুম বিল্লাহ

চাঁদপুর-৩ আসনের সাংসদ শিক্ষামন্ত্রী আলহাজ্ব ডা. দিপু মনির নেতৃত্বে একসময়ের অবহেলিত উপজেলা হাইমচরে নতুন প্রাণে সজীবতা ফিরে এসেছে। যে স্থানের নাম শোনামাত্র-ই মানুষ ভাবতো চরাঞ্চল, তা এখন পৌরসভা না হতেই উন্নয়নের ছোঁয়ায় শহরে রুপ নিচ্ছে। ভিঙ্গুলিয়া থেকে জালিয়ার চর পর্যন্ত কোনো গ্রাম কিংবা মহল্লা বাকী নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। মেঘনার করাল গ্রাসে নিপতিত হয়ে মানুষ যখন হতাশায় নিমজ্জিত, তখনই পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে হাইমচরের অভিভাবক হিসেবে হাল ধরলেন ডা. দিপু মনি। শুরু করলেন নিজের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে হাইমচরবাসীর স্বপ্ন পূরণের কাজ।

জানা যায়, হাইমচরের মূল ঐতিহ্য ধারন করে ছিলো সাবেক হাইমচর বাজার। ব্যাংক, হসপিটাল, থানা, উপজেলাসহ গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলো ছিলো সেখানে। কিন্তু সাজানো সকল ঐতিহ্য ধুলিস্যাৎ হয়ে মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে যায় তৎকালীন উপজেলার প্রাণকেন্দ্র। হাজার হাজার পরিবার মেঘনার করাল গ্রাসে নিপতিত হয়ে ভিটেমাটি হারিয়ে হয়েছেন সর্বশান্ত। তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ জিও ব্যাগ ফেলে মেঘনার ভাঙ্গন থেকে হাইমচরবাসীকে রক্ষা করতে চাইলেও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি সে বাঁধ। প্রবল স্রোতের কবলে ভেসে গিয়েছে জিও ব্যাগ, আশার থলিতে পুনরায় হতাশা।

পরিশেষে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডা. দিপু মনিকে হাইমচরের অভিভাবক হিসেবে সংসদে পাঠান সর্বস্তরের জনগণ। তিনি সর্বপ্রথম প্রায় সাড়ে ৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে হাইমচরবাসীর প্রানের দাবি মেঘনা রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেন। সেই থেকে হাইমচর পেয়েছে নতুন প্রাণ আর সর্বত্র ফিরে এসেছে সজীবতা। পেছনে ফিরে তাকানোর কোনো অবকাশ রাখা হয়নি।

তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনি হাইমচরকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে নিরলস কাজ করেছেন দিনরাত। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ ও দক্ষ শিক্ষক সহ শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে গ্রাম ও মহল্লায় ক্লিনিক স্থাপন করেন। ঝড়-তুফান কিংবা জলোচ্ছ্বাস থেকে হাইমচরবাসীকে নিরাপদ রাখতে সর্বত্রে নির্মাণ করেন আশ্রয়কেন্দ্র সহ বিভিন্ন ফ্লাট সেন্টার। যাতায়াতের পথ সহজ করতে প্রতিটি কাচা রাস্তা পাকাকরণ, পাকা রাস্তা সংস্কার ও বৃদ্ধি করে যানবাহন চলাচল উপযোগী করে তোলেন। চাঁদপুর থেকে হাইমচরে যাতায়াতে হাইওয়ে সড়কসহ নানামুখী উন্নয়নে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন সর্বদাই।

উপজেলার ঢেলের বাজার থেকে চরভৈরবী পর্যন্ত বেড়িবাঁধ রাস্তায় মানুষ চলাচল করতে ভয় পেতো। সে রাস্তা ছিল চলাচলের অনুপযোগী। ডা. দিপু মনির আন্তরিকতায় সে রাস্তাটি এখন হাইওয়ে সড়ক। যার মাধ্যমে চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর সহ নোয়াখালী জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হয়েছে। হাইমচরের শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা লাভের জন্য পাড়ি দিতো দেশের বিভিন্ন জেলাশহর ও রাজধানী ঢাকায়। হাইমচর মহাবিদ্যালয়কে সরকারি কলেজে রূপান্তর করে, ডিগ্রি মানে উন্নিত করে সে সমস্যার সমাধানও করেছেন তিনি।

‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ এর আওতায় হাইমচরে শতভাগ বিদ্যুৎ ও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্পষ্টে লেম্পপোস্ট স্থাপন করে সমগ্র উপজেলাকে আলোকিত করেছেন। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করে মধ্যচরে বসবাসরত মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছেন। যা চরবাসী কখনো কল্পনা করেনি। হাইমচরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল উন্নত স্বাস্থ্যসেবা হাতের নাগালে পাওয়া। বর্তমান সরকারের শাসনামলে প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্লিনিক স্থাপন ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। সেই সাথে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স কে ৫০ শয্যায় উন্নিত করতে সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাইমচরে এসে মেরিন ড্রাইভ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল করার ঘোষণা দিয়ে যান। হাইমচরকে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধশীল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ। সেই সাথে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ‘গ্রাম হবে শহর’ এর আওতায় উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।

এক সময়ের অবহেলিত হাইমচর আজ উন্নয়নের রোল মডেল। আজ থেকে একযুগ পূর্বেও এ উপজেলার মানুষ অস্তিত্বহীনতায় ভুগেছে। স্থায়ী বাসিন্দাদের অনেকের ভিটেমাটি ১০/১৫ বারও বিলীন হয়েছে সর্বনাশা মেঘনা গর্ভে। অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে ছেড়েছেন এই জনপদ। পাড়ি দিয়েছেন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলাশহরে। টানা ক্ষমতায় থাকায় নানামুখী উন্নয়নে কালের বিবর্তনে সময়ের পরিক্রমায় এক সময়ের নিস্তেজ অবহেলিত উপজেলায় প্রাণ ফিরে এসেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 dailydeshamar
Design & Developed BY Freelancer Zone